ইতালির ভেনিসে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা শারীরিক হামলা ও মারাত্মক হেনস্তার শিকার হয়েছেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর অন্যতম আন্দোলনকারী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকার একটি পার্কে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে, গায়ে পানি ও কোক ছুঁড়ে মারে এবং তাঁকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাঁর সাথে থাকা চার বছরের এক শিশুর সামনেই তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান ফেসবুকে এক বার্তায় সরাসরি হামলায় জড়িত ৮ জনের পরিচয় প্রকাশ করেন। অভিযুক্তরা হলেন—হাওলাদার মনিরুল, মাসুম খালাসি, সেপল মাহমুদ বিপ্লব, কাজী লাবু, আলতাব পাহার, প্রেম কুমার হৃদয়, নুর-ই আলম ও মোক্তার মোল্লা। এদের কয়েকজনকে হামলার দুদিন আগে ভেনিসে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছিল, যা ঘটনার পেছনে ইন্ধনের ইঙ্গিত দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীরা বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে এবং ডিম ও বোতল থেকে তরল ছুঁড়ে মারছে। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন কমিটির নেতা হাওলাদার মনিরুল এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভও করে।
তাৎক্ষণিক এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, এই বর্বর হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন এবং তাঁর ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে পলাতক নেতাকর্মীরা।
ইতিমধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ইতালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভুক্তভোগী অভিনেত্রীকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
