২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে যুক্তরাষ্ট্রে উগ্রবাদী গোষ্ঠী আল-কায়েদা পরিচালিত সমন্বিত আত্মঘাতী হামলায় বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে এক মোড়ঘোরানো অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিভীষিকাময় এই হামলায় ২,৯৯৭ জন নিহত হন এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়।
৯/১১-এর হামলার পর বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার সমীকরণ দ্রুত বদলে যেতে থাকে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মুসলিম বিশ্বে। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও নীতি নির্ধারকদের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গিতে সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠী ও দেশগুলো নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত হতে থাকে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বৈষম্য ও ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারে জ্বালানি জোগায়।
হামলার জেরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ’ (ওয়ার অন টেরর)-এর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এর পরপরই আফগানিস্তান ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক পদক্ষেপের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়।
৯/১১ পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা বয়ে আনে। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও সীমান্ত পেরিয়ে আসা সামরিক হস্তক্ষেপের জের এখনও বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে।
