জ্বালানি সংকট সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক বিঘ্নিত হওয়ায় এবং জ্বালানির দর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে তেল শোধনের সক্ষমতা বাড়াতে এই পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।
১৯৫০ সালে প্রণীত ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় আইন। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার স্বার্থে এই আইনের অধীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশের যেকোনো বেসরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা কারখানাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি পণ্য ও সেবা উৎপাদনে বাধ্য করার আইনি এখতিয়ার রাখেন।
সংকট সমাধানে মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন কোনো তেল শোধনাগার তৈরির পক্ষপাতী নন, কারণ এতে কয়েক বছর সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন। তাই দ্রুত ফল পেতে এবং তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে বর্তমান শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের জন্য এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে ফেডারেল আর্থিক সাহায্য ও কারিগরি সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান তেল শোধনাগারগুলো তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার প্রায় ৯৮ শতাংশ ব্যবহার করে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আইনি সহায়তা ও সরকারি বরাদ্দ ছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ানো শোধনাগারগুলোর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।







