জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজনের মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন। রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের অর্জিত সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করে তা রাজকোষে জমা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরের ঘোষিত মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যার মধ্যে উত্তরায় ৫ কাঠা জমি, নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। একই নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে অংশ নেওয়া আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের মোট ৩৫ কোটি১৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে; যার মধ্যে শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগ, কোটি টাকার কৃষিজমি, ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি গুলশানে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং এফডিআর ও যানবাহনসহ সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্তি কার্যক্রম তদারকি করবে।







