ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সম্প্রতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক ভিন্ন রূপ নিয়েছে। মব জাস্টিস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ মতাদর্শগত কৌশলের ফলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপট নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে অভিমত জোরালো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন, জিন্নাহর রাজনীতির মাধ্যমেই মূলত এই ভূখণ্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের ধর্মীয় পরিচয়, টুপি পরিধান এবং খাদ্যভ্যাসের—বিশেষ করে গরুর গোশত খাওয়ার—পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছিল। বিষয়টি বর্তমানে জনমানসে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি জিন্নাহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মব সংস্কৃতি ও ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বহু অজানা দিক জনসমক্ষে আসছে। বিশেষ করে ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষা বিষয়ক বিতর্কিত বক্তৃতা, তাঁর মৃত্যুর সময়কাল (১৯৪৮ সাল) এবং পরবর্তীতে বাঙালি মুসলিমদের নিজস্ব রাজনৈতিক ভূখণ্ড লাভের প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদান নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে জিন্নাহর প্রতি দীর্ঘদিনের ঢালাও নেতিবাচক ধারণার বদলে এক ধরনের ঐতিহাসিক ও যুক্তিযুক্ত পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে উগ্রতা ও মব সংস্কৃতি প্রদর্শন করতে গিয়ে আখেরে প্রতিপক্ষের কৌশলের কাছেই হেরে যাচ্ছে। একদিকে যখন ক্যাম্পাসে জিন্নাহ ইস্যুতে উত্তেজনা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছিল, অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের মতো সংগঠনগুলো সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ধৈর্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে কৌশলগত সুবিধা হাসিল করে নিয়েছে।
একইসঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এমনকি তৎকালীন কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় জিন্নাহর প্রশংসার বিষয়টি প্রামাণ্য আকারে উঠে আসায় ইতিহাসভিত্তিক এই চর্চায় লাভবান হচ্ছে জিন্নাহর সমর্থক ও কৌশলী রাজনীতিবিদেরাই।







