জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে কোন দলের এমপি—এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কারের পরও তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে। তবে তিনি জামায়াতের এমপি হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও দলটির নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের পর তিনি আর জামায়াতের সদস্য নন।
গাজী নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনো জামায়াতের সদস্য হিসেবে আছেন বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, দলীয় খাতাপত্রেও তাঁর সদস্যপদ রয়েছে বলে তিনি জানেন।
তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খানও জানান, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল আর দলের সদস্য নন।
সংসদে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
বহিষ্কারের পর সংসদেও গাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতেও তাঁকে রাখার বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।
তবে এসব ঘটনার পরও সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর আসন এখনো বহাল রয়েছে।
জামায়াতে ফেরার চেষ্টা
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলকে পদত্যাগ করে ভবিষ্যতে দলে ফেরার পথ তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সে পথে না গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় দলে ফেরার চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনও তিনি বিরোধী দলের কয়েকজন এমপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়নি বলে সূত্রগুলোর দাবি।
জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং তাঁর আসনে বিকল্প প্রার্থী তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
এমপি পদ থাকবে কি না
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে মূল প্রশ্ন হলো—শুধু কোনো রাজনৈতিক দল একজন এমপিকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় কি না।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানে সংসদ সদস্য পদে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনের সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিধান নেই।
এ কারণে বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ হারানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগ ওঠে। এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা এখনো স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।







