আজ ১৬ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ‘মরুভূমির সিংহ’খ্যাত ওমর আল-মুখতারের ঐতিহাসিক শাহাদাতবার্ষিকী। ঔপনিবেশিক ইতালি বাহিনীর হাত থেকে সেনুসি আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি লিবিয়ার মুক্তিকামী মানুষের প্রধান আশা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।
চাদ ও মিসরের যুদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার ভৌগোলিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ওমর আল-মুখতারের নেতৃত্বে মুজাহিদরা সুসংগঠিত হয়ে ইতালিয়ানদের ঘাঁটিতে সফল রাত্রিকালীন গেরিলা আক্রমণ চালানো শুরু করেন। একের পর এক ঝটিকা আক্রমণের কারণে স্থানীয় লিবিয়ানদের কাছে ওমরের বিপ্লবী বাহিনী ‘নিশাচর সরকার’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ওমরের প্রতিরোধ গুড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে জেনারেল রুডলফ গ্র্যাজিয়ানির অধীনে ইতালীয় বাহিনী স্থানীয় জনগণের ওপর নির্বিচারে বিমান হামলা, বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ, কূপের পানিতে বিষ মেশানো এবং কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করার মতো বর্বর অত্যাচার চালায়। এসব অনাহার ও চরম নির্যাতনে প্রায় ৫০ হাজার বন্দি মৃত্যুবরণ করলেও ওমরের বাহিনীকে দমানো সম্ভব হয়নি। জাবাল আল-আখদার বা গ্রিন মাউন্টেইন্স এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও কৌশলগত রণকৌশলে তিনি দারনায় ইতালীয় বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং তাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যান।
অবশেষে ১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-বেইদার সোলোন্তা এলাকায় মাত্র ৪০ জন সঙ্গী নিয়ে বিশ্রামের সময় স্থানীয় রাজাকারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতালীয় বাহিনী তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। যুদ্ধ চলাকালে ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে আহত অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ মহানায়ক শিকলবন্দি হয়ে শত্রুর হাতে আটক হন।
অনমনীয় ঈমান ও সাহসিকতার প্রতীক এই বীর সেনানী কোনো অন্যায় আপস বা মিথ্যা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন, “যেই শাহাদাত আঙুলি দিয়ে আমি প্রতিদিন সাক্ষ্য দিই যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সেই আঙুল দিয়ে অসত্য কোনো কথা লিখতে পারব না। আমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে আত্মসমর্পণ করি না—আমরা হয় জিতি, না হয় মরি।”
বন্দি অবস্থায় ইতালীয় জেনারেল গ্র্যাজিয়ানির প্রশ্নের জবাবে অটল ঈমানের সাথে তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “যুদ্ধ করা আমাদের দায়িত্ব, আর বিজয় আসবে আল্লাহর কাছ থেকে।” অসামান্য তেজ, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও অদম্য বীরত্বের প্রতীক এই স্বাধীনতাকামী নেতাকে ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রহসনমূলক বিচারে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়।
