সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট করার অভিযোগে দায়ের করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য-সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। বর্তমানে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ভোরে রাজধানীর মিরপুরের মণিপুরীপাড়ার একটি বাসা থেকে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে উক্ত মামলাটি দায়ের করেন। পরে তাঁকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে, যা শুনানির পর আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে রিমান্ড চলাকালে বা পরবর্তীতে কারাগারে থাকা অবস্থায় তানভীরের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। তানভীরের আইনজীবী এজাজ আল ওয়াসির দাবি অনুযায়ী, হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্যানিক ডিসঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের পাশাপাশি গত ১৫ আগস্ট তিনি স্ট্রোক করেন। পরবর্তীতে তাঁর শরীরের নিচের অংশ অবশ হওয়ার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
ডিবি রিমান্ডে অজ্ঞাত ইনজেকশন প্রদান ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠলে তাঁর আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। তানভীরের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাজুল ইসলাম জামিন আবেদন করলে গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরকে এক বছরের জামিন প্রদান করেন।






