নাটোরের সিংড়ার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি লিজের পৌনে চার লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে গ্রামের উন্নয়নের নামে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে মাইকিং করে মোট ১২ একর জমি আগামী এক বছরের জন্য ইজারা দেয়। এর মধ্যে বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি তিন লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারা প্রক্রিয়া চলাকালেই সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন উপস্থিত লোকজনের সামনেই গ্রাম উন্নয়নের অজুহাতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুই লাখ টাকা এবং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে নেন। ঘটনার আড়াই মাস পার হলেও এই অর্থের কোনো সুরাহা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি অবহিত করেছেন। অপরদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, তিনি রসিদ মূলে প্রাপ্ত টাকার হিসাব রেখেছেন এবং এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই অর্থ গ্রামের মানুষের কাছেই রয়েছে। তবে অপর অভিযুক্ত নেতা আজমল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের টাকা ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যবহার করাকে তিনি অন্যায় মনে করেন না, যদিও তাঁর কাছে কোনো টাকা গচ্ছিত নেই বলে তিনি জানান।






