জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু হাফেজদের হাতে উপহার হিসেবে ইসরায়েলি লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ বইটি তুলে দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধর্মীয় শিক্ষা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির এই বই শিশুদের উপহার দেওয়ায় সচেতন মহল ও আলেম সমাজে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, হারারির রচিত গ্রন্থাবলীতে ধর্ম ও ধর্মীয় ভাবধারাকে মূলধারার ইতিহাস বা বিজ্ঞানের বদলে একটি ‘কাল্পনিক রূপকথা’ বা ‘মিথ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে শৈশবেই কোমলমতি হাফেজদের হাতে এমন দর্শনের বই তুলে দেওয়া হলে তা তাদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে এই বই নির্বাচনের নেপথ্যে আমলাতান্ত্রিক অসচেতনতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বইটি নির্বাচনের পাশাপাশি এর অনুবাদক ও প্রকাশনী সংস্থা ‘নিয়ন পাবলিকেশন্স’ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক চাঙ্গা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত প্রকাশনীটি পূর্বে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে লক্ষ্য করে লেখা বিতর্কিত বই নিজেদের পরিবেশন তালিকা থেকে সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এমন একটি বিতর্কিত প্রকাশনীর বই প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে উপহার হিসেবে পৌঁছানোয় তাদের প্রকাশনা ব্যবসায়িক সাহস আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিজ্ঞমহলের মতে, হিফজ সম্পন্ন করা শিশুরা সাবলীলভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে পারলেও এ বয়সে এর গভীর অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবন করার যোগ্যতা অনেকেরই থাকে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাগতিক দর্শনের বই না পেয়ে, তাঁদের কোরআনের অন্তর্নিহিত বার্তা বোঝার জন্য ‘তাওযীহুল কুরআন’ কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘তাফসীরে উসমানী’র মতো প্রামাণ্য গ্রন্থ উপহার পাওয়া অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও গঠনমূলক হতো।






