আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোরআনের আলোকে সংবিধান প্রণয়ন করা যেতে পারে। তবে কোরআনকে সরাসরি সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য হলেও ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তন করা যায় না।
শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত Bangladesh Jamaat-e-Islami: Its History and Politics বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুর রাজ্জাকের বইটি শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এতে একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
বইয়ে আলোচিত আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সমাজের ভেতর থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।
নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান এবং জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সেই অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তাঁর সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।
মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় আবদুর রাজ্জাকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করতেন।






