প্রতি লিটারে তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার বাজারগুলোর মধ্যে বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের নিত্যব্যবহার্য কেরোসিন ও পেট্রোলের দামে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫ টাকায়। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ভারতে রেশনের দাম ও খোলাবাজারের গড় মূল্য অনুযায়ী কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। ফলে ভারতীয় বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে কেরোসিন কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা।
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে যানবাহনের জ্বালানি পেট্রোলের ক্ষেত্রেও। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে ভারতে প্রতি লিটার পেট্রোলের বর্তমান দর প্রায় ১৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। ফলে প্রতিবেশী দেশটির চেয়ে বাংলাদেশে লিটারপ্রতি পেট্রোল কেনায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১৫ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দর পতনের মধ্যেও সরকার কর্তৃক সীমান্ত পাচারের অযুহাত দিয়ে দেশের বাজারে এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, জ্বালানির দামের এমন অস্বাভাবিক প্রভাব পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
