জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে জানা যায়, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এমিরেটসের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছান। পাঁচ দিনের সফরকালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে ভাষণ দেন।
প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, সফরে তাঁর প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সভা ও কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি ছিল।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। সেখানে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ‘থ্রি-আর’—Recovery, Restoration and Reconstruction—কৌশলের কথাও তুলে ধরেন।
এ ছাড়া নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জেপি মরগ্যান চেজ আয়োজিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান তিনি এবং বাংলাদেশকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে ব্যবসার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান।
পাঁচ দিনের সফর শেষে শুক্রবার রাতে নিউইয়র্ক ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাতে তিনি দুবাই পৌঁছান এবং সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর রোববার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে সকালে তাঁর বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
