দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির নেত্রী ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রসঙ্গ তুলে জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতেই মাহমুদা মিতু এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে মাহমুদা মিতু লেখেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সালমান মুক্তাদির সাহসের সঙ্গে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তখন অনেকেই কথা বলতে সাহস না পেলেও তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মাহমুদা মিতু বলেন, বর্তমানে যাঁরা নিজেদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ দেখে স্বস্তিতে আছেন, তাঁদের সামনেও যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি তাঁর পোস্টে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
সরকারের কার্যক্রম নিয়েও পোস্টে কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মাহমুদা মিতু লেখেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। পাশাপাশি চাকরি দেওয়া, মন্ত্রীদের সন্তানদের সম্পদশালী করা এবং কার্ডের নামে বিপুল অর্থের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহমুদা মিতু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশ তাঁর নির্দেশনা মানছে কি না এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কি না।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অভিযোগ
মাহমুদা মিতুর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, রাজধানীর ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে একদল ব্যক্তি স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং সেখানে থাকা কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নেওয়া হয়। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
সালমান মুক্তাদির এর আগে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হিসেবেও ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন
পোস্টের শেষাংশে মাহমুদা মিতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে অতীতের সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা টেনে শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
তবে মাহমুদা মিতুর এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ; এগুলোকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রমাণিত তথ্য বা আদালতে প্রতিষ্ঠিত অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।







