গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লা এবং প্রস্তাবিত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুজন মোল্লা বহিষ্কৃত হলেও এপ্রিলে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পুনর্বহালের পর আবারও একের পর এক বিতর্কে জড়ানোয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, ওই দুই যুবদল নেতা তুলাতলা এলাকার একটি সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁশের পাইলিং করে বাঁধ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ছরোয়ার হোসেন মোল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরকারি জায়গা আটকে ব্যক্তিগত স্বার্থে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে সুজন মোল্লা জানান, জমি ও খাল পতিত থাকায় তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে সরকারি জায়গায় এভাবে বাঁধ দেওয়াটা ঠিক হয়নি বলে মানেন তিনি।
এ ছাড়া রিফাত বিশ্বাস নামে এক যুবককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুজন ও নাজমুলের বিরুদ্ধে। মধ্যস্থতাকারী বাচ্চু হাওলাদার জানান, রাতে ডিবি পরিচয়ে রিফাতকে আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান কোনো পুলিশ নয়, বরং যুবদল নেতা সুজনসহ কয়েকজন তাঁকে জিম্মি করে রেখেছে। পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকা দাবির পর স্থানীয়দের জানাজানি হলে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে ডিবি পরিচয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে অভিযুক্তরা দাবি করেন, মাদকসহ রিফাতকে ধরা হয়েছিল এবং পরে মীমাংসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘন ঘন এসব অপকর্ম ও অনিয়মের ঘটনায় পুরো দলীয় ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের যুবদলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মান্নান শেখ জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো দলীয় ফোরামে পর্যালোচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।







