ঢাকা মহানগরে আওয়ামী লীগের হাত থেকে হাতবদল হয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারবার এখন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দখলে চলে গেছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক গোপন তালিকায় তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৫৩০ জন চাঁদাবাজ ও দখলদারের মধ্যে ২৩০ জন প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকসহ প্রায় ৬০০ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মী। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে ব্যাপক তোলপাড় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএমপির তৈরি করা দেড় বছরের বেশি সময়ের তদন্তভিত্তিক এই তালিকায় দেখা যায়, রাজধানীর ৭৮টি স্থানে গণপরিবহন এবং ফুটপাত থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কেবল মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-২ পর্যন্ত ফুটপাত থেকেই মাসে প্রায় ৪২ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। মাঠপর্যায়ের ১ হাজার ২৫২ জন চাঁদাবাজের মধ্যে বহু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ছাড়াও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অসাধু পুলিশ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কিছু সংবেদনশীল সহিংসতার পেছনেও এই চক্রগুলোর মদদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে তাণ্ডব, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের চেষ্টা এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের পেছনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন প্রভাবশালী পরিচয়ের ভয়ে চুপ থাকা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাবের পর বিচার পাওয়ার আশা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি না করলে দলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে। এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের আশ্বাস দেওয়া হলেও, তালিকার বিষয়ে জানতে চাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে কোনো অবগত নন এবং মন্তব্য করার অবস্থানে নেই বলে জানিয়েছেন।
