ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম-খুনসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচার ক্রমেই বাড়ছে। এসব অনাচার বন্ধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার হলেও দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও পরিবর্তন পায়নি। বিদ্যমান নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত থাকলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী কিংবা শতবর্ষ উদযাপন করা সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
মঙ্গলবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, জনগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে তাদের কার্যক্রম পরীক্ষা করেছে। কিন্তু বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতির মাধ্যমে কেউই সমাজ ও রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার ভুলে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে বারবার হতাশ করেছে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এ কারণে দেশের মানুষ ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে।
সম্মেলনে আইএবির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, তাদের শীর্ষ নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার সংস্কৃতি থাকবে না—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার এখনো নানা ধরনের টালবাহানা করছে। এভাবে চলতে থাকলে জনবিস্ফোরণ ঘটতে সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের কোনো গোপন এজেন্ডা নেই দাবি করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, তারা অতীতেও জনগণের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাদের লক্ষ্য ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করা।
সভাপতির বক্তব্যে আইএবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, দলের নেতাকর্মীদের প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে পৌঁছে গিয়ে শরিয়াহর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলো থেকেই শরিয়াহ বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ভিশন ও মিশন নির্ধারণ করেই তারা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ তাদের নির্বাচিত করলে ঢাকা মহানগরকে একটি স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, নগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক, নগর উত্তর সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, নগর উত্তর সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম ও মাওলানা ফরিদুল ইসলামসহ অন্যরা।
