গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও খোয়া যাওয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের একটি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) রাসেল আহমেদ তাঁর লিখিত বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাশেদ খান তাঁকে রাজনীতিতে উচ্চ পদে আসীন করা ও ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। উপহার হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের আইফোন, ল্যাপটপ, ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র এবং রাশেদের ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ির ১৬টি কিস্তির টাকাও ভুক্তভোগী রাসেলকে দিতে হয়েছে। চীন সফরের খরচসহ গত দেড় বছরে তাঁর কাছ থেকে অন্তত ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাশেদ খান বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও রাশেদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ঝিনাইদহ সদরের কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় পিয়ন পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন রাশেদ। এছাড়া নারী অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরা বেগম জানান, নির্বাচনে সহযোগিতার নামে তাঁর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা ফেরত চাইলে রাশেদ ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, চাকরি বা অন্য কোনো প্রলোভনে কারও কাছ থেকে তিনি কোনো অর্থ লেনদেন করেননি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক চক্র এ ধরনের ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
