নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে চরম আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ইদ্রিস হাসান নামের এক সুবিধাবাদী রাজনীতিক। গত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে সক্রিয় থাকা এই ব্যক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খোলস বদলে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। শুধু যোগদানই নয়, তিনি এক লাফে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতী দলের গুরুত্বপূর্ণ ‘সাংগঠনিক সম্পাদক’ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্যাডে অনুমোদিত সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের ২৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে ইদ্রিস হাসানকে ২৩ নম্বর সদস্য করা হয়েছিল। অথচ ২০২৫ সালে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬৬ সদস্যের নতুন কমিটিতে একই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পদায়ন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকে বিএনপিতে ভেড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য জুয়েল রানা বলেন, ৫ই আগস্টের আগে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ করা ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির পদে আসে, তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে অনুপ্রবেশকারী এই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ডের আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিতর্কিত ইদ্রিস হাসানকে কমিটিতে পদায়নের বিষয়ে জানতে তাঁতী দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক মকবুল হোসেন ও সদস্যসচিব মো. নবী নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং মহানগর কমিটির মাধ্যমে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
