কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ালে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে নলচর গ্রামের বাসিন্দারা চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবিকে গ্রামের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেন। প্রথমে এই সিদ্ধান্তে সমর্থন থাকলেও পরবর্তীতে একই আসন থেকে ইউপি বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল বারেক প্রধান নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় হলেও বারেক প্রধানের এই আকস্মিক প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়।
রবিউল্লাহ রবির পরিবারের অভিযোগ, মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফারের ইন্ধনে সোমবার রাতেই রবির সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষ বারেক প্রধানের লোকজনের ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে এক পক্ষ অপর পক্ষের বাসাবাড়িতে হামলা চালাতে এলে উভয় পক্ষই প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা গাফফার দাবি করেছেন, নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হতে পারলেও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং তিনি দুই পক্ষের কোন্দল মেটানোরই পক্ষপাতী।
খবর পেয়ে মেঘনা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক এই সংঘাতকে ঘিরে নলচর গ্রামজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
