জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার আশুলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম নৃশংস ঘটনা ছিল পিকআপ ভ্যানে মানবদেহের স্তূপ বানিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার নৃশংসতা। কিন্তু সেই লোমহর্ষক ঘটনার মূল আলামত—লাশ পোড়ানো পিকআপ ভ্যানটি অতি সম্প্রতি অবহেলাভরে ডাম্পিংয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে ঐতিহাসিক ও আইনি আলামত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারে অন্যতম প্রধান দলিল হিসেবে বিবেচ্য এই পিকআপ ভ্যানটি কোনো প্রকার সুরক্ষা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছিল। অতি সম্প্রতি ‘জাস্টিস ফর জুলাই অ্যান্ড জুলাই রিভোলিউশন আর্কাইভ’ (JRA)-এর ঢাকা উত্তর কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাম্পিং করা গাড়িটি ভাঙাড়ির হাতে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করেন। জেরা (JRA)-র সদস্যরা সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কিছু মানুষের পোড়া হাড়, চাবির রিং এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল আলামত উদ্ধার করেন।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি ও রায় প্রক্রিয়া চলমান বা সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও এত বড় একটি ঐতিহাসিক আলামত এভাবে অবহেলায় ফেলে রাখা রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম বহিঃপ্রকাশ। এই বর্বরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষীকে কীভাবে এখনও পর্যন্ত ‘জুলাই গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘর’-এ স্থান দেওয়া হয়নি এবং ডাম্পিংয়ে নষ্ট হওয়ার জন্য ফেলে রাখা হলো—তা নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ও সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল স্মৃতি ও আইনি দলিল হিসেবে পিকআপ ভ্যানটিকে দ্রুততম সময়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সাথে কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক চক্রের ইশারায় এই আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন মহল এ বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং আশুলিয়া এসি ল্যান্ড অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
