সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিভিত্তিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিজিবির ‘সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধবিদ্যা স্কুল’ (SSSDW)। মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠানটির শুভ সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিজিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি রাইফেল বহনে সক্ষম বিশেষ ড্রোন (Gun Drone/Armed Multirotor)-এর আত্মপ্রকাশ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সরাসরি হেঁটে না গিয়েও দূর থেকে আকাশপথে নজরদারি ও সরাসরি গুলি চালানোর সক্ষমতা অর্জন করল বিজিবি। বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত গান ড্রোনের (যেমন তুরস্কের SONGAR) আদলে তৈরি এই ড্রোনে একটি Type-56 assault rifle সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাত বা কম আলোতে লক্ষ্যবস্তুর তাপ শনাক্ত করে নিখুঁত আঘাত হানতে এতে রয়েছে উন্নত থার্মাল ক্যামেরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির ড্রোন চালকেরা ড্রোনের বাস্তব আভিযানিক ব্যবহারের চিত্তাকর্ষক মহড়া প্রদর্শন করেন। এতে সীমান্তে ছয় সদস্যের টহল দলের অভিযান, ড্রোনের সহায়তায় চোরাকারবারিদের গতিবিধি শনাক্ত ও আটক এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখার কৌশল তুলে ধরা হয়। একই সাথে আকাশসীমায় অননুমোদিত শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও তা নিষ্ক্রিয় করার প্রতিরোধব্যবস্থাও প্রদর্শন করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, নবপ্রতিষ্ঠিত এই ‘সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধবিদ্যা স্কুল’-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সীমান্তে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির আভিযানিক প্রয়োগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সীমান্ত হত্যা রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কার্যকারিতা ও গতিশীলতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
