নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় এনসিপির এক নেতাকে মারধর ও পরবর্তী বিক্ষোভের মুখে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর বন্ধ থাকা মাটি কাটার রফা করতে এবং নদী থেকে অবৈধ ড্রেজিং চালুর উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপি ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের মধ্যে এক গোপন আঁতাত ও বৈঠকের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দুপুরে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাদির সিবিআইয়ের বাসভবনে এ গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এককভাবে নদীর মাটি কাটা সম্ভব না হওয়ায় এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের একঝাঁক নেতা উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান ও যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ অন্তত ১৪-১৫ জন চিহ্নিত নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
বৈঠক চলাকালীন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছামেদ আলী কৌশলে সামনের সারিতে নারীদের ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন এবং পেছনের পথ দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে সটকে পড়েন। ডিবি পুলিশের সূত্র জানায়, আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে না পারায় সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে নিষিদ্ধ ও চিহ্নিত আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান। তিনি দাবি করেন, “আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে তাঁর বৈঠকের বিষয়টি অসত্য এবং কাদির সিবিআই যে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন, তা-ও তাঁর জানা নেই।”







