ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর উত্তাল হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) আয়োজিত এক সুবিশাল গণবিক্ষোভ থেকে আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও একাধিক ছাত্র সংগঠনের সাত শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে একটি প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত, ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই এবং বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার নানা অসঙ্গতি নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই নির্বাচন সংক্রান্ত চরম অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণ নেতৃত্বাধীন নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), আম আদমি পার্টি (আপ), এআইএসএ ও এসএফআইসহ প্রধান বিরোধী জোটগুলো ২ অক্টোবরের গণবিক্ষোভের ডাক দেয়। আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই যন্তর মন্তর ও আশপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকায় বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে এবং ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ওই এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টার জন্য এয়ারটেল, জিও এবং ভোডাফোনের ফাইভ-জি ও ৪-জি ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়।
বিপুল কড়াকড়ি ও ব্যারিকেড ভেঙে শুক্রবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হলে সংঘাত বেঁধে যায়। পুলিশি অ্যাকশনে আপ-এর দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, মন্ত্রী অতিশী, সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং ও সঞ্জীব ঝাসহ শীর্ষ নেতাদের জোরপূর্বক চড়াও হয়ে আটক করা হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ‘গণতন্ত্রের শত্রুর’ সাথে তুলনা করে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ, বিতর্কিত নির্বাচনী আইন বাতিল এবং ভোটার ছাঁটাইয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
তবে সার্বিক উত্তেজনার মাঝে নির্বাচন কমিশন থেকে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, যেকোনো সাংবিধানিক সংস্থায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির রাজপথ ছাড়াও মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কসহ দেশের একাধিক প্রান্তে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
