দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর অবশেষে ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে থাকা অবশিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ বছরব্যাপী সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটছে।
২০০৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে সাদ্দাম হোসেনের উৎখাত ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালের শেষে মার্কিন সেনারা একবার ইরাক ত্যাগ করলেও ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটলে তাদের মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীকে পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘ এই দুই দশকে ইরাকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
চলতি বছরের ইরান কেন্দ্রিক আঞ্চলিক যুদ্ধের উত্তাপেও ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা মারাত্মক হামলার মুখে পড়ে। এ সময়ে মোট নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ৭ জনই ইরাকের মাটি বা ঘাঁটিতে প্রাণ হারান। ইরাকে সর্বশেষ মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটে গত জুলাই মাসে, যখন এরবিলের কাছে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন বিস্ফোরণে এক মার্কিন আর্মি সার্জেন্ট প্রাণ হারান।
মার্কিন বাহিনী চূড়ান্তভাবে সরে যাওয়ার ঘটনাকে নিজেদের “ঐতিহাসিক বিজয়” এবং “আমেরিকান প্রকল্পের জন্য এক বড় পরাজয়” হিসেবে অভিহিত করেছে অঞ্চলের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তাদের মতে, মার্কিন সেনাদের এই বিদায় মূলত তাদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং আপসহীন অবস্থানেরই বড় সাফল্য।
অন্যদিকে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পদক্ষেপে ইরাকে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, আমেরিকান গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, ড্রোন নজরদারি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা বন্ধ হলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের সুপ্ত ঘাঁটিগুলো পুনরায় সংগঠিত করে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে।
