রাশিয়া থেকে রওনা হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ বিমানটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে এসে পৌঁছেছে। সব ধরনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেই ফ্লাইটটি বাংলাদেশে অবতরণ করে।
এর আগে পাকিস্তান বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি ও পদ্ধতিগত জটিলতা তৈরি করায় ফ্লাইট সূচিতে বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে হায়দার নামের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি আকাশসীমা অনুমোদন ও ফ্লাইট রুটের সাথে সম্পর্কিত কারিগরি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত, যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিশেষ সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়েছিল।
বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়ামের চালানটি বুঝে নেন। প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করে রাতেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জ্বালানির চালানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়।
বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বিমানবন্দরে জ্বালানি পৌঁছানো থেকে শুরু করে পাবনার রূপপুরে নেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। পুরো পরিবহন প্রক্রিয়াটি সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে পৌঁছাবে। এই বিশেষ চালানগুলো রাশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি দেশে এসেছিল। পরবর্তীতে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের মে মাসে সেই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লিতে (রিয়েক্টর) বসানো হয়।
