ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে মারামারি করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান রোমা সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অনুসারী কর্মীদের উসকে দিয়ে হামলা না চালিয়ে সাহস থাকলে সশরীরে মাঠে আসার আহ্বান জানান এবং দুইজনের কার কতটুকু শক্তি তা মুখোমুখি পরীক্ষার সরাসরি চ্যালেঞ্জ দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষ করে এমপি তমিজ উদ্দিনের সমর্থকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোটরসাইকেল মহড়া শুরু করলে ইউপি চেয়ারম্যান রোমার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।
ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, এমপি তমিজ উদ্দিনের অনুসারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবু এবং স্থানীয় কর্মী বাবুল সরদার ও শরীফসহ ৬-৭ জনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। আহতদের মধ্যে বাবুল সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। মূলত স্থানীয় অন্য এক প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করার কারণেই এমপির গোষ্ঠী তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দলীয় মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়াটি এ কে এইচ কারখানার সামনে পৌঁছালে ইউপি চেয়ারম্যান রোমার লোকজনের পক্ষ থেকে প্রথম হামলা চালানো হয়। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং তাঁদের নিজস্ব কর্মী শরীফুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজনৈতিক এই সংঘাতের পর ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে সংঘাত ও হামলার সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।







