কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পুলিশি হেফাজতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে তাঁদের উদ্ধার করে ভোররাতে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের সিংমারী জেলার সুখচর উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও আবদুল আনিছ ওরফে খাজা (৩৯)। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন মহানগর ডিবি পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বাবলা।
রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গতকাল রোববার কুড়িগ্রামের উলিপুরের দইখাওয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বিএসএফ তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে কে বা কারা রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে তাঁদের আটক করে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুই ভারতীয় নাগরিকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁদের বুক, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অজস্র গুলির আঘাত রয়েছে।
অন্যদিকে চিকিৎসাধীন আহত ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশি ভেবে আটক করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে এসে তাঁদের উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
