সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তোফাজ্জুল হক বাপনের (২৮) বিরুদ্ধে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা শাল্লা থানায় তোফাজ্জুল হক বাপনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদল নেতা বাপন সুকৌশলে তাঁর মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে এবং বর্তমানে তরুণীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্ত তোফাজ্জুল হক বাপন উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বিরন মিয়ার ছেলে।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল অপহরণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের এক তরুণীকে অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকে তোফাজ্জুল হক বাপন গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না জানান, অপকর্মে লিপ্ত থাকা ও বিতর্কিত চলাফেরার কারণে প্রায় এক বছর আগেই বাপনকে সংগঠন থেকে দূরে থাকতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অপহরণের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক মিয়া জানান, তোফাজ্জুল হক বাপন দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মেয়েটির সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও থানায় যেহেতু অপহরণের সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে, তাই তাঁকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায়িত্ব ছাত্রদল নেবে না। অপরাধের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
