পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার এলাকা থেকে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের মনির নামের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাকিব মাদবর ও কর্মী সিয়াম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী মনিরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন মনির পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে বসাক বাজার এলাকা থেকে মনিরকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যান সাকিব ও সিয়াম। পরবর্তীতে তাঁকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহূত ‘স্যামসাং এস২৫ আল্ট্রা’ মডেলের একটি দামি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং এক বন্ধুর মাধ্যমে নগদ এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তামান্না রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা সাকিব মাদবর। তাঁর দাবি, গভীর রাতে মনির স্থানীয় এক মেয়ের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে হাতেনাতে ধরে মারধর করে। খবর পেয়ে তিনি কেবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন; নির্যাতন, মুঠোফোন ছিনতাই বা মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ও অকুস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
