এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক।
এর ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ বহাল থাকছে। একই সঙ্গে আগে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর করা আপিলের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার মেয়াদ ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্ট রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ আপিল করলে মঙ্গলবার শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে সরকার যে বিধি চালু করেছিল, সেটিই আপাতত কার্যকর থাকছে। পাশাপাশি আগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পথও উন্মুক্ত হলো।
১৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য
দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে মোট ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ ছিল।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে ৩ হাজার ১৩১টি পদ শূন্য ছিল।
সব মিলিয়ে ওই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি।
৪৬ রিটকারীর জন্য পদ সংরক্ষণ
চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রাখতে হবে।
অর্থাৎ, ওই ৪৬টি পদ বাদ দিয়ে বাকি শূন্য পদগুলোতে সরকার নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে। ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো তাৎক্ষণিক আইনগত বাধা থাকছে না।
