ইরানের সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় ধসে পড়ার পর বর্তমানে দেশটি প্রকৃতপক্ষে কারা পরিচালনা করছে, তা ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বও কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে এখন ঠিক কারা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কারও জানা নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত চলাকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি।
ট্রাম্পের এ জাতীয় মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই দাবি করেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন ভালোভাবেই অবহিত। তিনি মার্কিন কর্তাদের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী বলে আখ্যা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে গেছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সামনে সহজ অথবা কঠিন—যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার বিকল্প উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানান।
বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সামরিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে। তবে তাঁর এই দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডে শীর্ষ সামরিক ও নীতি নির্ধারকদের বৈঠকের পর ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাবে, নাকি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমাধান খুঁজবে—তা নিয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে এবার আরও ব্যাপক ও নজিরবিহীন পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের সংঘাত ৮ এপ্রিল এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থমকে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এখনো কাটেনি। সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।







