ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে হিজাব ও নিক্বাব পরার কারণে শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজ মাহবুব কর্তৃক কটাক্ষ, হেনস্তা এবং ‘জঙ্গি, ফান্ডামেন্টালিস্ট ও সন্ত্রাসী’ অপবাদ দেওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।
ঘটনাটি ঘিরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পৃথক দুটি বিবৃতি প্রদান করে। উভয় বিবৃতিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে ইসলামোফোবিয়া বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাককে কেন্দ্র করে তাকে অপমানিত, ভীতসন্ত্রস্ত ও শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যের শিকার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিক্বাব পরিহিত কোনো শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া শিক্ষাঙ্গনে নিক্বাবফোবিয়া ও ইসলামোফোবিয়ার ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী শিক্ষিকার জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না পৃথক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ঢাবির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব-নিক্বাব বিদ্বেষের কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্ত শিক্ষিকার মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসারই প্রকাশ ঘটায়। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, অথচ এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ব্যক্তিদের অবস্থান দুঃখজনক।
দুটি বিবৃতিতেই ক্লাসরুমে সহপাঠীর সঙ্গে ঘটা এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে ইংরেজি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান এবং ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তকে আন্তরিক সাধুবাদ জানানো হয়।
ভবিষ্যতে যেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ধর্মীয় পোশাক নিয়ে যেকোনো বৈষম্য ও হয়রানিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নীতিমালায় ‘শাস্তিযোগ্য অসদাচরণ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
