রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামের এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মামলায় তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সালাম রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি এবং নগরীর প্যারামেডিকেল এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে সালামের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি জড়ো হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে রামেবি উপাচার্যের কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় উপাচার্যকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে এবং ঠিকাদারি কাজ বন্টন নিয়ে অভিযোগ তুলে তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা আগে থেকে লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে উপাচার্যের স্বাক্ষর আদায় করে। শুধু তা-ই নয়, উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং কক্ষ থেকে সিসিটিভি ও কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নিয়ে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় হামলাকারীরা।
এ ঘটনায় রামেবি উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন আর রশিদ মামুন জানান, রামেবির উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। কোনো নেতাকর্মী গিয়ে থাকলে তা ব্যক্তিগতভাবে গেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিএনপি সর্বদাই ‘মব কালচার’-এর বিপক্ষে এবং ব্যক্তিস্বার্থে কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।







