রাজধানীর মতিঝিলে ঐতিহাসিক ‘বাংলার বাণী’ ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এবং তাঁর দল গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন সানীর নেতৃত্বে ভবনটির অর্ধেকেরও বেশি অংশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরের ঘনিষ্ঠ ও প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত সারোয়ার হোসেন সানী ছাড়াও দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই ভবন দখলের নেপথ্যে রয়েছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তেজগাঁওয়ে আরেকটি ভবন দখলের অভিযোগ ওঠে সানী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল।
৮১ মতিঝিলে অবস্থিত চারতলা বিশিষ্ট ‘বাংলার বাণী’ ভবনটির মালিক সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পরিবার। গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি বিদেশে পাড়ি জমায় ভবনটির ওপর তাঁর পরিবারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে।
৫ই আগস্টের পর ভবনটিতে কয়েক দফা দখলের চেষ্টা চালায় নানা পক্ষ। প্রথমে বিক্ষুব্ধ জনতা এবং পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ধারীরা ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহড়া দেয়। তবে সর্বশেষ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ভবনটির ওপর তলাগুলোতে তালা ঝুলিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
বর্তমানে ভবনটির নিচতলায় ‘পানসি’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়েছে, যার মালিকানায় গণঅধিকার পরিষদ পরিচয়ের ব্যক্তিরা যুক্ত বলে জানা গেছে। তবে ভবনটির সামনের অংশে ভাড়া থাকা ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক’-এর শাখাটি এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের কাছে ভাড়ার টাকা দাবি ও স্থানান্তরের হুমকি দেওয়া হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, বাংলার বাণী ভবন দখলের বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং বিষয়টি তাদের জানা নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের আগে ভবনটি ছিল উর্দু দৈনিক ‘পাসবান’-এর কার্যালয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মণি এটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঐতিহাসিক ‘দৈনিক বাংলার বাণী’ পত্রিকার কার্যক্রম ও অফসেট প্রেস স্থাপন করেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে ২০০৯ সালে ভবনটির মালিকানা ফিরে পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
