তুরস্কের পুঁজিবাজারে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের নজিরবিহীন ফান্ড কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে দেশটির সরকার। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ ঘোষণা দিয়েছেন, লিকুইডেশনের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অর্থ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ভুক্তভোগীদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হচ্ছে।
এই বিশাল সংকট মোকাবিলায় কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সাতটি পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩১টি ফান্ড অবসায়ন বা লিকুইডেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্কের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাপিটাল মার্কেটস বোর্ড (SPK)। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি পুরো টাকা না দিয়ে, সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর শেয়ার ও সিকিউরিটিজ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
পুরো আর্থিক সমন্বয় ও বিক্রয় প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির শীর্ষ দুটি ব্যাংক—কৃষি ব্যাংক (Ziraat Bank) ও কর্মসংস্থান ব্যাংককে (İş Bank)। হঠাৎ শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়া বা বাজারে বড় ধস এড়াতে ব্যাংক দুটি সম্পদগুলো এককালীন বিক্রি না করে তিন থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে বিক্রি করবে।
ক্ষতিগ্রস্তরা কত টাকা ফেরত পাবেন, তা নির্ভর করছে তাঁদের কেনা ‘পার্টিসিপেশন ইউনিট’ বা শেয়ারের বাজারদর এবং সম্পদ বিক্রির শেষ মূল্যের ওপর। কেন্দ্রীয় ডেটা সিস্টেমে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের আগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাঁদের পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরত পাবেন।
অন্যদিকে, কারসাজি করে অবৈধ মুনাফা অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্ত করছে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (MASAK)। অভিযুক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছেন। এসব উদ্ধার করা অর্থ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি টিএমএসএফের (TMSF) অধীনস্থ বিশেষ তহবিলে স্থানান্তর করে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করা হবে।
পুরো লিকুইডেশন ও অর্থ বণ্টন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ‘ফান্ড কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’। রাষ্ট্রপতি রেজেপ তায়িপ এরদোয়ান বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, সরকার জনগণের পাশে রয়েছে এবং কেলেঙ্কারির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাকে কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
