রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে গভীর উত্তেজনা ও চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক খাবারের আয়োজন ঘিরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর এই অবস্থান ও উসকানিমূলক স্লোগানকে বড় ধরনের আস্ফালন হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচ ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চ এলাকায় পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ আপত্তি জানান। তাদের দাবি, অনুষ্ঠানটি একটি অস্থায়ী প্রার্থনাস্থল বা মন্দিরের কাছাকাছি এলাকায় করা হয়েছিল এবং সেখানে ব্যবহৃত ইটগুলো মন্দিরের নির্ধারিত সীমানা থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশেই সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন একটি টয়লেট করার কথা থাকলেও কিছুদিন আগে সেখানে একটি অস্থায়ী উপাসনালয় তৈরি করা হয়। সাধারণ খাবারের আয়োজনকে ঘিরে পরবর্তীতে একদল শিক্ষার্থী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা আক্রমণাত্মক স্লোগান দেন। এ সময় রাজনৈতিক দলের কিছু পদধারী ও বিতর্কিত গোষ্ঠীর ইন্ধনে এই ক্ষোভকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিকরাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচের ‘গেট-টুগেদার’ অনুষ্ঠানে গরুর মাংস রান্না ও আহারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘটনার জেরে রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মহড়া ও নানা উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচভিত্তিক সামাজিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গরুর মাংস রান্না করাকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারী সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই আয়োজন করা হয় এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত ইটগুলো পাশের একটি অস্থায়ী মন্দিরের প্রাঙ্গণ থেকে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, যে স্থানটিকে মন্দির হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তা মূলত শিক্ষার্থীদের টয়লেট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছিল, যা পরবর্তীতে দখল করে উপাসনালয়ে রূপ দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘মৌলবাদীদের আস্তানা জগন্নাথে হবে না’ সহ বিভিন্ন তীব্র ও আক্রোশমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ‘সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ’ ও ‘অগ্নিবীর’সহ বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠনের ব্যানারে এই প্রতিবাদ ও স্লোগানের আয়োজন করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনায় পিছন থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।







