বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মতো স্পর্শকাতর ও সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনীর ভেতরেও উগ্রবাদের কালো ছায়া ও জঙ্গিবাদের বিপজ্জনক জাল বিস্তৃত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর চট্টগ্রামের একটি বিমানঘাঁটি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া বাহিনীর একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান মিলেছে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি ঘাঁটিতে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে যে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উক্ত সদস্য বর্তমানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে টিটিপি-এর হয়ে সক্রিয়ভাবে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। টিটিপি মূলত দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি কানেকশন উদ্ঘাটনের পর সদস্যটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত ও তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো অতি-সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে উগ্রপন্থী ভাবাদর্শের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ ও সরাসরি হুমকি। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নথির সুবিধা যেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদে নজরদারি ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স তৎপরতা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে দেশে সক্রিয় নতুন ও পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে আটক ২৭ জন চরমপন্থী যুবককে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের ইন্টারোগেশনে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, দেশে সম্পূর্ণ নতুন একটি উগ্রবাদী সামরিক গোষ্ঠী গঠনের পাঁতারা চলছিল, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘ইত্তেহাদ-উল উম্মাহ’।
ইতোমধ্যে আটককৃত কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গি গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা নতুন এই উগ্রপন্থী প্ল্যাটফর্মটির অধীনে সশস্ত্র তৎপরতা ও সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমানে ‘ইত্তেহাদ-উল উম্মাহ’ নামক এই নতুন জঙ্গি নেটওয়ার্কটির অর্থায়ন, আদর্শিক শীর্ষনেতা এবং দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা তাদের স্লিপার সেলের খোঁজে ব্যাপক তদন্ত ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।







