ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান প্রবল বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চরম বর্বরতা, পিটিয়ে আধমরা করার চেষ্টা, যৌন হেনস্তা ও চরম নির্যাতনের ভয়াবহ সব অভিযোগ। তবে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় ও জবাবদিহি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্রী শরণ্যা শর্মার অভিযোগ, আটকের পর নারী পুলিশকর্মীরা তার টি-শার্ট টেনে মাথার ওপর তুলে ফেলে চূড়ান্ত অপমানিত করেন এবং চুল ধরে হিঁচড়ে বাসে তোলেন। এরপর তিনজন বিশালদেহের পুরুষ কমান্ডো ইচ্ছাকৃতভাবে প্রিজন ভ্যানের লোহার দরজায় তার পা চেপে ধরে অনবরত ধাক্কা দিতে থাকেন। নাঙ্গলোইয়ের আটক কেন্দ্রে তীব্র গরমে খাবার, পানি ও শৌচাগার ছাড়া দীর্ঘ সময় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয় তাকে।
একইভাবে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসএফআই) দিল্লি সভাপতি নাদিয়া জানান, বাসে তুলে তার গলা চেপে ধরে, চুল টেনে এবং চিমটি কেটে নির্যাতন চালানো হয়েছে। “তোমাকে আধমরা অবস্থায় ছাড়ব” বলে হুমকি দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে চড়-থাপ্পড় ও পিটিয়ে তার ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। পিএইচডির শিক্ষার্থী নোভেল ও সমাজকর্মী অর্জুনদের অভিযোগ, সাধারণ একটি বাসে আটকে রেখে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে বারবার মুখে ঘুষি, যৌনাঙ্গে বুটের লাথি এবং গলা টিপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
কেবল শিক্ষার্থীরাই নন, এই আন্দোলনে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়, যার মধ্যে স্ক্রল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নিউজলন্ড্রি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অন্তত ৩৫ জন দিল্লিতেই মোস্তফা কামাল স্টাইলে আটক হন। প্রেস কার্ড দেখানোর পরও তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসিয়ে ঘুরিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোদি সরকার ও দিল্লি পুলিশ প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ১৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পুরো শহরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে। যন্তর-মন্তরে সভা করতে না দিয়ে বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা জারির মাধ্যমে দমন-পীড়নের চরম পথ বেছে নেওয়া হলেও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন—শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর বেআইনিভাবে এই ধরনের নির্যাতন ও আটক সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। গভীর নির্যাতনের চোট শরীরে বহন করেও রাজপথে নতুন করে জমায়েত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, যার জবাবদিহি এখন মোদি প্রশাসনকে দিতেই হবে।







