বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝায় চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ সামাল দিতে গিয়ে দেশ কার্যত ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। এতে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ২২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ। এই হিসাবে দেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ২৯ হাজার টাকা।
অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, সরকারের আয় কমে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে।
সংকট মোকাবিলায় তিনটি পদক্ষেপের পরামর্শ
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।
১. রাজস্ব আয় বাড়ানো: সরকারের আয় বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
২. উৎপাদনশীল খাতে ঋণের ব্যবহার: ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল খাতের বাইরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে নতুন ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ: সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি এবং অর্থের অপচয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজস্ব আয় বাড়ানো, ঋণের অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ দেশের বিদ্যমান ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
