প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের গোপন ‘হট কানেকশন’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন একই দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুক হাসানের ২০২৩ সালের একটি বক্তব্যের পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ফারুক হাসানকে বলতে শোনা যায়, নুরুল হক নুরের অনুসারী ও রাজনৈতিক সহযোগীরা মূলত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবহিনী থেকে উঠে আসা একদল ক্যাডার। নুর ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসার কারণে গোপন প্রক্রিয়ায় এখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি যাতে নতুন করে পুনর্জন্ম ও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, নুরকে সে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে নুরুল হক নুরকে ‘স্বঘোষিত হাসিনাপুত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর ক্যাম্পাসে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন, ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া কিংবা গায়েবানা জানাজা আয়োজনে বারবার বাধা দিয়েছিলেন নুর। তিনি চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা আটকাতে পারেননি।
তরিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে টিএসসিতে দাঁড়িয়ে নুর প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন—‘সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গড়তেই বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন।’ এ বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদের নীতি-নির্ধারণী জায়গা থেকেও তিনি বাদ পড়েন। তাঁর দাবি, আখতার হোসেন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদদের আন্দোলনের নেতৃত্বের অবদান হাইজ্যাক করে এখন নিজেকে ‘আবরার ফাহাদ আন্দোলনের জনক’ দাবি করছেন বাকশালপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নুরুল হক নুর।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে যাত্রা শুরু করা গণঅধিকার পরিষদ ২০২৩ সালে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফারুক হাসান পরবর্তীতে ড. রেজা কিবরিয়া ও মশিউজ্জামানের অংশে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৪ সালের শেষভাগে নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদে পুনরায় যুক্ত হয়ে দলের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ গ্রহণ করেন। তবে আবরার ফাহাদ ইস্যু ও আওয়ামী যোগসাজশ নিয়ে সাম্প্রতিক এসব বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশের পর নুর নিজের মন্ত্রীত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মত বিশ্লেষকদের।
