পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৫৩ ঘণ্টা পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে বাড়ির সামনের একটি খাল থেকে ব্যাগভর্তি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আল আমিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে কচুরিপানা সরিয়ে একটি ব্যাগের ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাইয়ান নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিশুটি তার বাবা রাসেল খানের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। তার মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির আঙিনা, পুকুর, ডোবা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রাইয়ানের মা রুমানা বেগম। মামলায় তাঁর ভগ্নিপতি আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরেই ঘুটাবাছা গ্রাম থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল আমিনের সঙ্গে শিশুটির বাবা রাসেল খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে শিশুটিকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে রাইয়ান কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা কতটুকু—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
এদিকে নিখোঁজের প্রায় ৫৩ ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় ঘুটাবাছা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিশু রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আল আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
