কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ‘টুপটাপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দশজনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চ্যানেল 24-কে দেওয়া তথ্যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন। ইতোমধ্যে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছরের শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। বাকিদের পরিচয় শনাক্তকরণে প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভাষ্যমতে, ভোরে আকস্মিক আগুনের সূত্রপাত হলে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত পর্যটকেরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অল্প কয়েকজন বাইরে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং সকাল ৯টার মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আহত অবস্থায় আরও নয়জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় রিসোর্টের ছয়টি কক্ষে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। রেফ্রিজারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রিসোর্টটির বেশিরভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এবং প্রতিটি কক্ষে এসি ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন অত্যন্ত দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পেছনে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা বৈধতা ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
