আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার হুমকি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি ‘হাসিনার সস্তা সংস্করণ’ হওয়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বিভিন্ন তৎপরতা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির চিফ হুইপ নিজ জেলা বরগুনায় গিয়ে ভোটারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষ সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে পছন্দমতো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি দলের ২০৩ জন সংসদ সদস্যকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, এমন এলাকাগুলোকে এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের অনির্বাচিত প্রশাসকেরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, জনগণের করের অর্থে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পদ নয়। তাই রাজনৈতিক পছন্দের কারণে কোনো এলাকার মানুষকে উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কিংবা উন্নয়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছে না।
বিবৃতির শেষাংশে বিএনপিকে সতর্ক করে সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলটি শেখ হাসিনার শাসনামলের একটি দুর্বল সংস্করণ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। জনগণকে প্রতিপক্ষ মনে করে দেশ পরিচালনা করলে অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের যে পরিণতি হয়েছিল, তা বিএনপির ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি যদি জনগণের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরও কঠিন পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
