যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মহোৎসবের পর এবার আরও এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে। পরীক্ষায় যারা সম্পূর্ণ ফাঁকা খাতা কিংবা মাত্র এক-দুটি এমসিকিউ দাগিয়ে খাতা জমা দিয়েছিলেন, জাদুকরি উপায়ে তারাও ফলাফলের মেধাতালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছেন!
এই নজিরবিহীন অনিয়ম প্রমাণ করে যে, পরীক্ষার্থীদের মেধার কোনো মূল্য নেই; বরং মন্ত্রণালয়ে প্রতিটি চাকরি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগ—‘২৫ লাখ টাকা করে মন্ত্রণালয়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে’—এবার দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে এভাবে মেধাহীনদের চাকরি দেওয়া হলে দেশের লাখ লাখ প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী কোথায় দাঁড়াবে? পরিকল্পিতভাবে দেশকে মেধাশূন্য করার এই আত্মঘাতী পাঁয়তারা রোধ করা না গেলে জাতির ভবিষ্যৎ চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চরম কেলেঙ্কারির পর সৃষ্ট জনরোষ সামাল দিতে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নতুন এক নাটক মঞ্চে এনেছেন বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের (১১তম গ্রেড) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে তিনি নিজে সচিবালয়ে রাত কাটানোর প্রচার চালিয়েছেন। প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর ৩১৭টি পদের এই পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও প্রতিমন্ত্রীর এই ‘রাত জাগা কর্মসূচি’ যে কেবলই লোক দেখানো আইওয়াশ, তা এখন স্পষ্ট।
এর আগে গত শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জঘন্য ঘটনার পর পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এত বড় কেলেঙ্কারির পর দায় এড়াতে রাত জেগে প্রশ্নপত্র তৈরি বা তদারকির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলেও ভেতরে ভেতরে কোটা ও টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির সিন্ডিকেট ঠিকই সক্রিয় ছিল। ফাঁকা খাতা জমা দিয়েও চাকরি পাওয়ার যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাতে প্রমাণ হয় সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর রাত কাটানোর পাহারা শুধুই প্রহসন। কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য ঢাকতে এই ধরনের লোক দেখানো নাটক বন্ধ করে অবিলম্বে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস এবং খাতা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
