ইরানের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দূরপাল্লার কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রবিবার ইরানের জাতীয় সংসদ (মজলিস) এক উন্মুক্ত অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার অনুমোদনের ভিত্তিতে তাঁর এই নিযুক্তি চূড়ান্ত করে।
নবনির্বাচিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্পর্শকাতর গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মধ্যবর্তী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের আধুনিকীকরণ এবং বিকাশে তিনি প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত।
প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পদের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ইরানের ‘শহীদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করেছিলেন। এই বিশেষ সংস্থাটি মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা ও কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট ব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল কাজ তদারকি করে থাকে।
পরবর্তীতে কেতাবচি ইরানের অ্যারোস্পেস শিল্প সংস্থাকে (Aerospace Industries Organization) দীর্ঘ মেয়াদে নেতৃত্ব প্রদান করেন। এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি ইরানের মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ এবং উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষ সামরিক প্রযুক্তিবিদ ও অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে বসিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের মহাকাশ ও দূরপাল্লার নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর ও আধুনিক করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষার সর্বোচ্চ জোর দেবে তেহরান।
