দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী শহর হিলিতে যৌথ বাহিনীর চালানো এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের চার শীর্ষ নেতাকর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৭১১ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১২ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩টি ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ২৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৭৮ হাজার ২০০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত হিলির মুহাড়াপাড়া ও ফকিরপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে একযোগে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকের অবৈধ চালান সরবরাহের গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজিবি ২০ ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বাধীন এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহে আলম প্রধান (৫০) এবং তাঁর ছেলে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিমন (২৮)। এছাড়া তাদের সহযোগী হিসেবে আটক করা হয়েছে পৌর ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য শাহরিয়ার প্রধান রিফাত (২৫) এবং পৌর যুবদলের সদস্য বেলাল হোসেনকে (৩০)। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এভাবে সরাসরি মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা ও মজুতের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান চক্র সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে এই ধরনের আকস্মিক যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক চার রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে বিজিবি ও পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল মাদকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের পর দিনাজপুর জেলা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
