কক্সবাজারে কোনো প্রকার ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই বেপরোয়াভাবে চলছে শত শত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। প্রশাসনিক নজরদারির চরম অভাবে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার সুনির্দিষ্ট এবং সঠিক পরিসংখ্যান খোদ জেলা প্রশাসনের কাছেও নেই। জানা গেছে, জেলা জুড়ে গড়ে ওঠা প্রায় সাড়ে ৬ শতাধিক পর্যটন স্থাপনার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০টির ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী পাটুয়ারটেকের একটি অবৈধ রেস্তরাঁ ও রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটক নিহতের মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভয়াবহ এই চিত্র সামনে এল। অগ্নিকাণ্ডের শিকার রিসোর্টটির কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। অথচ তদারকির তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে পৌরসভার সামান্য ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কক্সবাজারের পর্যটন খাতে অনিয়মের চিত্র চরম উদ্বেগজনক। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শহরের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের সুয়ারেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই এবং মাত্র ৫০টির মতো প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় গত এক বছরে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকা জরিমানা ও ২৮টি মামলা করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি।
একইভাবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ৬ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বছর মাত্র ৫০টি প্রতিষ্ঠান ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেছে। বারবার নোটিশ ও সতর্কবার্তা পাঠানো সত্ত্বেও প্রভাবশালী মালিকপক্ষ আইন ও নিরাপত্তার নিয়মাবলী অগ্রাহ্য করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগুনে প্রাণহানি ও ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর টনক নড়েছে জেলা প্রশাসনের। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অবিলম্বে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
