রাজধানীতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মার্কিন প্রযুক্তির তৈরি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও স্বয়ংক্রিয় ‘M4 Carbine / M16’ সামরিক গ্রেডের অ্যাসল্ট রাইফেল প্রকাশ্যে উঁচিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর এবার মূল প্রশ্ন উঠেছে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারের দিকে। একজন রাজনৈতিক ক্যাডারের হাতে কীভাবে এমন সামরিক মানের অত্যাধুনিক অস্ত্র এল, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দে ওই মারণাস্ত্র হাতে অবস্থান করছেন পাভেল শিকদার। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবিটিতে দৃশ্যমান রাইফেলটি কোনো সাধারণ লাইসেন্সকৃত কিংবা শিকারের অস্ত্র নয়; এটি মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেটিক ‘M4 Carbine’ বা ‘M16’ গোত্রের অ্যাসল্ট রাইফেল। কোনো সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক ক্যাডারের এই ধরনের মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র বহন করা পুরোপুরি বেআইনি এবং রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধের শামিল।
পাবলিক ডোমেইনে ইতোমধ্যে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রাজনৈতিক ক্যাডার পাভেল শিকদার কীভাবে এত বড় মারণাস্ত্রের মালিক হলেন? এই সামরিক গ্রেডের অ্যাসল্ট রাইফেল কি কোনো সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে এসেছে, নাকি রাষ্ট্রীয় কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রাগার থেকে অবৈধ উপায়ে রাজনৈতিক ক্যাডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে? পাভেল শিকদার ও তার রাজনৈতিক চক্রের কাছে এই ধরনের আরও কত পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের অবৈধ মজুদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে জনগণ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নেপথ্যে তাঁর ক্যাডার বাহিনীর এমন অস্ত্র প্রদর্শন ও ফৌজদারি অপরাধের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ইশরাকের পদত্যাগের পর তাঁর এই সশস্ত্র সহযোগী পাভেল শিকদার বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন এবং প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে—তা জানতে উন্মুখ দেশবাসী।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, অপকর্ম ও অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে পাভেল শিকদার এখন গোপনে দেশত্যাগের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রকাশ্যে উঁচিয়ে ধরা ওই রাইফেলটি শতভাগ অবৈধ ছিল বলেই তিনি এখন আত্মগোপনে থেকে সীমান্ত পার হওয়ার পাঁয়তারা করছেন। রাজপথে তাণ্ডব চালানো এই চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, তার অস্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ এবং এই মারণাস্ত্রের অবৈধ সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের জোর দাবি উঠেছে।
