উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ভারতের কুখ্যাত তিহার জেলে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কোনো বিচার ছাড়াই বন্দি করে রাখা হয়েছে দুই প্রখ্যাত মুসলিম ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে। বিতর্কিত ‘ইউএপিএ’ (UAPA) বা কালাকানুনের অজুহাতে কোনো জোরালো প্রমাণ ছাড়াই এই তরুণ মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের দিনের পর দিন কারারুদ্ধ রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার পেছনে তথাকথিত ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ বানিয়ে ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর উমর খালিদকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দিল্লি দাঙ্গায় নিহত ৫৩ জনের বড় অংশই ছিলেন স্থানীয় মুসলিম নাগরিক। তা সত্ত্বেও উগ্র হিন্দুত্ববাদী শাসকদল বিজেপি-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা না করে উল্টো ঘটনার সময় দিল্লি থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে অবস্থানরত উমর খালিদের ওপরই পুরো দাঙ্গার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি-বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি বিহারের জাহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার হন শারজিল ইমাম। আন্দোলনে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করে প্রথমে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকেও দিল্লি দাঙ্গার তথাকথিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কাল্পনিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও আইআইটির মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা এই দুই মেধাবী ছাত্রনেতা ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন। ভারতের স্বৈরাচারী প্রশাসনিক ও বিচারিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তাঁদের জামিন আবেদন আটকে রেখে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে, যাকে সিভিল সোসাইটি ও মানবাধিকার কর্মীরা ‘বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
